শুক্রবার, ১২ Jun ২০২৬, ০২:১১ পূর্বাহ্ন
দুরভিসন্ধি নিয়ে কোনো জিনিস অস্বাভাবিকভাবে বেশি পরিমাণে মজুত কিংবা অন্য কোনো কারসাজি করে কেউ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে প্রয়োজনে তাকে জেলে পাঠানো হবে- বাজার নিয়ন্ত্রণে ২২ জানুয়ারি এ হুঁশিয়ারি দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাত্র ৯ দিনের মাথায় বেশি দামে ধান বিক্রেতাদের হাতকড়া পরানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন খাদ্যমন্ত্রী। এর পরপরই দিনাজপুরসহ ধান উৎপাদনকারী বেশ কয়েকটি জেলাতে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়। তবে অবৈধ মজুতদার কিংবা বেশি দামে ধান-চাল বিক্রি করা বেশ ক’জন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হলেও ভর মৌসুমেও মোটা থেকে সরু সব ধরনের চালের দাম আগের মতো আকাশ ছোঁয়াই রয়ে গেছে।
মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে গ্রেপ্তার ও জেলের ভয় দেখিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না বলে বাজার পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। তাদের ভাষ্য, খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা। উৎপাদক স্তর থেকে ভোক্তা স্তর এবং আমদানি স্তর থেকে ভোক্তা স্তর- এই দুই পর্যায়ে যারা মধ্যস্বত্বভোগী রয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে তাদের হাতে বাজার একচেটিয়াভাবে চলে গেছে। তারা বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং এ কারণে পণ্যের যে মূল্য তা বাজারের প্রতিযোগিতার সক্ষমতার নিরিখে হচ্ছে না। এই মধ্যস্বত্বভোগীরাই বাজারের মূল্য নির্ধারণ করছে এবং অনেক সময় সরবরাহকে প্রভাবিত করছে। তাই তারা যাতে নিজেদের ইচ্ছে মাফিক বাজার পরিচালনা করতে না পারে এজন্য সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে চাল, গমসহ বিভিন্ন ফসলের চাহিদা ও উৎপাদনের পরিসংখ্যান চিত্র তৈরি করতে হবে। সেইসঙ্গে আগাম সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। তাদের শাস্তি দিয়ে বাজার বাগে আনার চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হবে। বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠারও আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।